জেলা পরিষদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পর সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে নির্বাচনী সরগম হয়ে উঠছে। এ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন পেতে জেলা আ’লীগের অনেক সম্ভাব্য প্রার্থী দৌড় ঝাপও শুরু করেছেন। এ পদে মনোনয়ন পাওয়ার আশায় কেন্দ্রীয় নেতা ও মন্ত্রীদের ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় ও সাক্ষাৎ করছেন অনেক সম্ভাব্য প্রার্থী।

বিশেষ করে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জেলা আ’লীগের ৪ প্রভাবশালী নেতার নাম শোনা যাচ্ছে। তারা হলেন, বর্তমান জেলা পরিষদের প্রশাসক সাবেক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, জেলা আ’লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কেএম হোসেন আলী হাসান, জেলা আ’লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু ইউসুফ স‚র্য ও কেন্দ্রীয় মহিলা আ’লীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক ড. জান্নাত আরা তালুকদার হেনরী।

এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর কে হচ্ছেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী তা নিয়ে শহর বন্দরে আলোচনাও উঠেছে। ইতোমধ্যেই অনেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে জানান ও দোয়া চাচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা আ’লীগের নেতারা বলেন, জেলা পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আ’লীগের ৩ নেতা ও ১ নেত্রীর নাম শোনা যাচ্ছে।

তারা আপোষহীন রাজনীতিক ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক হিসেবে পরিচিত। তারা মনোনয়ন পেতে গোপন ও প্রকাশ্য কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে সাক্ষাৎ করছেন। এছাড়া আরো ২/১ জন দলের কাছে প্রার্থিতা চাইতে পারেন। এ নির্বাচন নিয়ে বিএনপির এখন কোনো ভাবনা চিন্তা নেই। তবে ২০১৮ সালের শেষে প্রথমবারের মতো জেলা পরিষদ নির্বাচন হয়। এ নির্বাচনেও বিএনপি অংশ নেয়নি।

বিশেষ করে সম্ভাব্য ওই ৪ প্রার্থীর মধ্যে বেশি আলোচনায় রয়েছেন জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক লতিফ বিশ্বাস। তিনি দীর্ঘ সময় জেলা আ’লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি মন্ত্রী থাকাকালীন জেলায় অনেক উন্নয়নের কাজ করেছেন। পরবর্তীতে তিনি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর অনেক উন্নয়নের কাজ করেছেন এবং প্রশাসক হিসেবে এখন উন্নয়ন কাজ করছেন। এ প্রসঙ্গে লতিফ বিশ্বাস বলেন, জেলার উন্নয়নে আমার অনেক অবদান রয়েছে। গরিব দুঃখী মানুষের পাশে আছি থাকবো। এজন্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে এ নির্বাচনে মনোয়ন প্রত্যাশী। তবে এ নির্বাচনে ভোটার স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ। মনোনয়ন পেলে তাদের ভোটে জয়যুক্ত হবো ইনশাআল্লাহ।

সম্বাব্য প্রার্থী সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু ইউসুফ সূর্যকে ঘিরেও আলোচনা কম নয়। তিনি বলেন, চেম্বার অব কমার্সের দায়িত্ব নেয়ার পর নতুনভাবে গড়ে তুলেছি এবং জনগণের সেবক হিসেবে অনেক কাজ করেছি। এখনও জেলা আ’লীগের নেতৃত্ব দিচ্ছি এবং জীবনের শেষ পর্যায়ে এ নির্বাচনে অংশ নিতে চাচ্ছি। দল আমাকে সেই সম্মান দেবে বলে আশা করছি।

সম্ভাব্য প্রার্থী জেলা আ’লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বিশিষ্ট সমাজ সেবক এ্যাডঃ কে এম হোসেন আলী হাসানকে নিয়েও যথেষ্ট আলোচনা রয়েছে। তিনি বলেন, জেলার উন্নয়ন কর্মকান্ডে আমার অনেক অবদান রয়েছে। আগামী নির্বাচনকে ঘিরে জেলা আ’লীগকে নতুন ভাবে সুসংঘঠিত করছি। এ নির্বাচনে দলের কাছে মনোনয়ন প্রত্যাশী। তবে দলের সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং বাদ বাকি আল্লাহ ভরসা।

সম্বাব্য প্রার্থী কেন্দ্রীয় মহিলা আ’লীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট সমাজ সেবক ড. জান্নাত আরা তালুকদার হেনরীও আলোচনায় পিছিয়ে নেই। তিনি বলেন, মহিলা আ’লীগের নেত্রী হিসেবে সিরাজগঞ্জসহ সারাদেশে দল সুসংঘঠনে দায়িত্ব পালন করছি। সেইসাথে বঙ্গবন্ধুর চেতনা বিকাশে ও জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতেও কাজ করছি এবং জনগণের স্বার্থে অনেক উন্নয়নের কাজ করেছি। এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নের আশাবাদী। তবে দল থেকে যে সিদ্ধান্ত দেয়া হবে সেটিই চুড়ান্ত।

এদিকে জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ তালুকদার বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে দলের মনোনয়ন বোর্ড। মানণীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দেবেন তিনিই হবেন দলীয় প্রার্থী। এ নিয়ে দলীয় নেতাদের চিন্তা ভাবনার কারণ নেই। তবে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৭ অক্টোবর এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Don`t copy text!
%d bloggers like this: