সিরাজগঞ্জে ঘনমাচা ও মালচিং পদ্ধতিতে কালো হাইব্রিড তরমুজ চাষে সফলতা পেয়েছে কৃষক আবু জাফর (৪৫)। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাগবাটি গ্রামের ওই আদর্শ কৃষক এ আধুনিক পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করে আসছে। তার এ তরমুজ চাষে সাফল্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে এ কালো তরমুজের চাষাবাদ করছি। প্রায় ২৫ শতক জমিতে ৪০০টি কারিশমা জাতের তরমুজের চারা রোপণ করা হয়েছে। গাছগুলো বেশ ভালোভাবেই বেড়ে উঠেছে। চারা রোপণের ২ মাস পর তরমুজ বিক্রি শুরু করেছি। এ চাষাবাদে খরচ হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার টাকা।

ইতিমধ্যেই ৯০/১০০ টাকা কেজি দরে ৩০০ কেজি তরমুজ বিক্রি করা হয়েছে। আরো অনেক তরমুজ বিক্রির অপেক্ষায় রয়েছে। এ চাষাবাদে আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার কেজি তরমুজ পাওয়া যাবে। যার আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে ১ লাখ টাকারও বেশি। এ পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করায় অনেক আদর্শ কৃষক এ চাষাবাদ দেখতে আসছে এবং তারাও এ চাষাবাদে ঝুকে পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা কৃষি অফিসার রোস্তম আলী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ঘনমাচা ও মালচিং পদ্ধতিতে এ কালো জাতের তরমুজ চাষ করা হয়েছে।

তরমুজ অনেক পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ একটি ফল। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, সি, পটাশিয়াম ও আঁশ আছে। প্রদর্শনীর মাধ্যমে কারিশমা জাতের হাইব্রিড তরমুজ চাষে অল্প সময়ে ও অল্প খরচে অধিক লাভবান হওয়া যায়। এ পদ্ধতিতে এক বিঘা জমিতে ১ হাজার থেকে ১২’শটি কারিশমা জাতের বারোমাসি তরমুজের চারা রোপণ করা যায়। রোপণের ২ মাসের মধ্যেই এ তরমুজ বাজারজাতের উপযোগী হয়। এক থেকে দেড় ফিট দূরত্বে রোপণকৃত প্রতিটি গাছে ফল হয় ৩/৪টি। প্রতিটির ওজন আড়াই থেকে ৩ কেজি। এ পদ্ধতিতে

চাষাবাদ করে কৃষকেরা সফলতা পেয়েছে। এ কারিশমা জাতের তরমুজের দামও বেশি। কৃষকদের এ জাতের তরমুজ চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। বেশি পরিমাণে এ চাষাবাদ হলে বাজার তৈরি করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don`t copy text!
%d bloggers like this: