আহসান হাবীব স্টাফ রিপোর্টারঃ-

নোয়াখালী সুবর্ণচর উপজেলার ১নং চরজব্বর ইউনিয়নে চর হাসান ভূঁইয়ার হাট উচ্চ বিদ্যালয়ে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় খোয়া গেছে নগদ অর্থ, বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি, দুটি সিলিং ফ্যান ও মূল্যবান কাগজপত্র।

 

২০ জুন (সোমবার) গভীর রাতে চোরেরা স্কুলের বেড়ার টিন কেটে ভেতরে প্রবেশ করে সততা স্টোরের বই, খাতা, কলম,জ্যামিতি বক্স, পেন্সিল, রাবার, নগদ টাকা এবং বিজ্ঞানাগারে মালামাল, স্কুলের অপর একটি কক্ষের দুটি সিলিং ফ্যানসহ প্রায় লক্ষাধিক টাকার মূল্যবান কাগজপত্র নিয়ে যায়। এ ছাড়া চোরেরা স্কুলের সততা স্টোরের কক্ষে ঢুকে সকল আসবাবপত্র তছনছ করে রেখে যায়।

 

সিনিয়র শিক্ষক সালাউদ্দিন বলেন, বিদ্যালয়ে সকাল সাড়ে ৭টায় এসে দেখতে পাই, বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের পাশে সততা স্টোরের প্রায় ৫০ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে গেছে এবং ডিসি অফিস কতৃক প্রদত্ত বিজ্ঞানাগারের কিছু মালামাল নিয়ে গেছে,কিছু মালামাল এলোমেলো করে রেখে গেছে,পাশের কক্ষের বেড়ার টিন কেটে রাতের যেকোন সময় চোর ডুকে বিদ্যালয়ে চুরি করেছে, পূর্ব পাশের কক্ষে দরজা ভেঙে চোর সেখানে অবস্থান করছে, সেখানে একটি গ্যাস লাইট, একটি দা,এবং কিছু জামাকাপড় রেখে গেছে, ওই রুমের দুটি সিলিং ফ্যান নিয়ে গেছে, আমরা বিদ্যালয়ের সভাপতি তরিকুল ইসলাম বিএসসি কে জানিয়েছি, বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এডভোকেট ওমর ফারুককে অবহিত করেছি, স্থানীয় ওয়ার্ড় মেম্বারকে জানিয়েছি।

 

চর হাসান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর নাহার বেগম বলেন, বিদ্যালয়ে এসে দেখলাম, বিদ্যালয়ের বেড়ার টিন কেটে চোর ডুকে সততা স্টোর, ও বিজ্ঞানাগারের মালামাল নিয়ে গেছে,আলমারি ভেঙে নগদ টাকা নিয়ে গেছে, দুটি সিলিং ফ্যান ও লাইব্রেরির মূল্যবান কাগজপত্র তছনছ করে রেখে গেছে, তিনি বলেন, ১৯৯৪ সালে স্কুলটি স্থাপিত হয়, ২০১০ সালে স্কুলটি এমপিও ভুক্ত হয়, ১নং চর জব্বর ইউনিয়নে এটিই একমাত্র এমপিও ভুক্ত স্কুল, সুবর্ণচর উপজেলায় এমপিও ভুক্ত সব স্কুল পাকা ভবন হয়েছে, এমপিও ভুক্তির এক যুগ পেরিয়ে গেলেও শুধু মাত্র চর হাসান ভূঁইয়ার হাট উচ্চ বিদ্যালয়টি টিনের জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে, এর আগেও স্কুলে বহু চুরির ঘটনা ঘটেছে, অনেক বড় বড় নেতারা আশ্বাস দিলেও আজ অবধি কোন ভবন জোটেনি বিদ্যালয়ের ভাগ্যে। এমতাবস্থায় স্কুলটি পাকা ভবন তৈরি করার জন্য নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী ও কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

 

চরজব্বর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউল হক তরিক খন্দকার বলেন, এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.