সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন স্থানে শতবর্ষী ডিঙ্গি নৌকার হাট বসেছে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই সপ্তাহের প্রতি শুক্রবার এ হাট বসে। এ হাটে ক্রেতাদের এ ডিঙ্গি নৌকা কেনার হিড়িক পড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উক্ত উপজেলার যমুনা, করতোয়া, হুরাসগর ও খাল বিলে বর্ষার পানি ভরে যায় এবং দফায় দফায় বর্ষণে এসব খাল বিলে পানি বাড়তে থাকে। এতে বিভিন্ন এলাকায় নৌকা তৈরি ও বিক্রির ধুম পড়েছে । এ নৌকা তৈরীতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। অতি সম্প্রতি পাহাড়ি ঢলে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ে। বন্যার পানি কমে গেলেও বর্ষণে এ অঞ্চলের নদী নালা ও খাল-বিলে পানি থাকে প্রায় সারাবছরই। এজন্য নিম্নাঞ্চলের মানুষের ডিঙ্গি নৌকা প্রয়োজন হয়ে থাকে এবং অসময়ে এ নৌকার কদরও বেড়ে যায়।

এ কারণে কৈজুরী স্কুল মাঠ, জালালপুর, সোনাতনী ও গালা হাটে বিক্রি হচ্ছে ডিঙ্গি নৌকা। এ নৌকা ক্রয় করে একদিকে সুফল পাচ্ছে নিম্নাঞ্চলের মানুষ। আর অপরদিকে এ নৌকা তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন অনেক কাঠমিস্ত্রী কারিগররা।

নৌকা কিনতে আসা অনেকেই জানান, আমরা নিম্নাঞ্চলের কৃষক মানুষ। বর্ষায় ফসলের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বর্ষার পানি কমে গেলেও যমুনা ও তার শাখা নদীর খাল বিলে পানি এখনও রয়েছে। এসব খালবিলে প্রায় সারাবছরই পানি থাকে। এ কারণে পারপার ও চলাচলে ডিঙ্গি নৌকায় একমাত্র ভরসা।

এদিকে কারিগররা বলছে, কাঠ মিস্ত্রীর মুজুরিসহ কাঠ ও নৌকা তৈরির সরঞ্জামের দাম বাড়ছে। এতে নৌকা প্রতি ১ হাজার থেকে ১২’শ টাকা লাভ হয়। এতে মোটামুটিভাবে সংসার চলছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Don`t copy text!