ঈদের আগে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গরুর ল্যাম্পিস্কিন রোগের প্রার্দুভাব দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যেই এ রোগে ২ শতাধিক গরু আক্রান্ত হয়েছে। ঈদের আগে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ায় খামারীরা বিপাকে পড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গো-ভান্ডার হিসেবে পরিচিত ওই উপজেলায় প্রায় ৩ লাখ গরু লালন পালন করা হচ্ছে। এখানে দেশি বেদেশিসহ গো-খামার রয়েছে প্রায় ৭ হাজার। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গো-খামারি ও প্রান্তিক কৃষকেরা প্রায় ১ লাখ ষাড় গরু লালন পালন ও মোটাতাজা করে প্রস্তুত করছে। তারা এলাকার চাহিদা পূরণ করে এবছরও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে এ গরু বিক্রি করা হবে। কিন্তু হঠাৎ কোরবানির আগে এ রোগ দেখা দেয় এবং ভ্যাকসিন প্রয়োগের পরেও অনেক গরুতে এ রোগ রোধ না হওয়ায় দূঃশ্চিন্তায় পড়েছে খামারীরা।

স্থানীয় গো-খামারী ইয়ামিন মোল্লা ও ফরহাদ হোসেনসহ অনেকেই জানান, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ষাড় গরু লালন পালন করা হচ্ছে। ঈদের হাটে এসব গরু লাভে বিক্রি করা হবে। এ লাভের টাকা দিয়ে সারা বছরের সংসার খরচ চলবে। হঠাৎ ১ সপ্তাহ আগে ল্যাম্পিস্কিন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে অনেক গুরু। এ রোগের চিকিৎসায় অতিরিক্ত টাকা খরচ হচ্ছে। এ রোগ এখন ছড়িয়ে পড়ায় লাভ দুরের কথা গুনতে হবে লোকসান। এ রোগ বেশি ছড়িয়ে পড়েছে পোতাজিয়া, রেশমবাড়ি, ছোট চামতারা, আঙ্গারু ও বাড়াবিলসহ অনেক গ্রামঞ্চলে। তবে গ্রাম্য পশু চিকিৎসক সাইদুল ইসলাম জানান, গত ১ সপ্তাহে পোতাজিয়াসহ অনেক গ্রামের নানা জাতের বহু গরু এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

ঈদের আগে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ায় খামারীদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া পাশ্ববর্তী উল্লাপাড়া ও রায়গঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের গরুও এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার ডা: মিজানুর রহমান আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, এ রোগ ছড়িয়ে পড়ায় গো খামারীরা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। গত ১ সপ্তাহে ২ শতাধিক গরু এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। নতুন এ রোগ প্রতিরোধে ইতিমধ্যেই ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হয়েছে। এতে আক্রান্ত অনেক গরু সুস্থ হয়ে উঠেছে।

এ রোগের প্রভাব বিস্তার রোধে সুস্থ্য গরুকেও ভ্যাকসিন দেয়া হচ্ছে। এদিকে জেলা প্রাণী সম্পদ অফিসার গৌরাঙ্গকুমার তালুকদার বলেন, আক্রান্ত এলাকায় বড় গরুর পাশাপাশি ছোট ছোট বাছুর গরু এ রোগে বেশী আক্রান্ত হয়েছে। এ রোগ প্রতিরোধে দ্রুত ভ্যাকসিন প্রয়োগে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই মাত্র পাওয়া খবর

চাকমারকুল মিয়াজীপাড়ায় মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা সম্পন্ন। মোহাম্মদ নোমান রামু কক্সবাজার প্রতিনিধি। শুক্রবার (২৭ জানুয়ারী ,২০২৩ইং) রাত ৮.০০ টায় রামু উপজেলার চাকমারকুল ইউনিয়নের মিয়াজীপাড়ায় ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান ব্যাপক দর্শক সমাগমের মধ্য দিয়ে বহুল প্রশংসিত এবং প্রত্যাশিত সী-গ্রীন স্পোর্টিং ক্লাব কর্তৃক আয়োজিত মিনি বার ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২২-২৩ এর ফাইনালখেলা সম্পন্ন হয়েছে। উক্ত ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন কলঘর বাজার সিনিয়র ফুটবল দল বনাম মালুম ঘাট ফুটবল দল। মাঠে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে মালুম ঘাট ফুটবল দলকে ১-০ গোলে পরাজিত করে কলঘর বাজার সিনিয়র ফুটবল দল চ্যাম্পিয়ন হয়।উক্ত খেলায় সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন কলঘর বাজার সিনিয়র ফুটবল দলের খেলোয়াড় আয়াত উল্লাহ। খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মাঝে ট্রফি সহ নগদ ৫০,০০০ টাকা,পরাজিতদের হাতে ট্রফিসহ নগদ ২০০০০ টাকা পুরস্কার তুলে দেন চাকমারকুল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জনাব মুফিদুল আলম (মুফিদ)। সী-গ্রীন স্পোর্টিং ক্লাবের উপদেষ্টা জনাব সরওয়ার আলমের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাকমারকুল ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার জনাব সাহাব উদ্দিন, ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার জনাব বেলাল উদ্দীন শাহীন, ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার জনাব নুরুল ইসলাম নুরু ১,২,৩ ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার জনান্বা আল মর্জিনা, ৪,৫,৬নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার গুলজার বেগম ৭,৮,৯১নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার মরিয়ম বেগম,সমাজ সেবক আমির হোসেন সিকদার, যুব নেতা সালাহ উদ্দীন জনাব সাইফুল ইসলামসহ প্রমুখ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুফিদুল আলম বলেন, যুব সমাজকে খেলাধূলার প্রতি আগ্রহী করে তাদেরকে রক্ষা করতে হবে। যুবসমাজকে রক্ষা করতে পারে একমাত্র ক্রীড়া জগত। তাই বেশি বেশি করে খেলাধূলার আয়োজন করতে হবে। উক্ত টুর্ণামেন্টের পরিচালনায় ছিলেন জানে আলম,ন্হুমায়ুন বিন কাসেম হিরু,জামাল হোসেন,কায়সার,জামশেদ,আশেক,হামিদুর রহমান,মনছুর,সোহেল,মনজুর,জাহেদুল ইসলাম,নুরুসহ প্রমুখ

Don`t copy text!
%d bloggers like this: