সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মেলন নিয়ে নেতাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। চলছে পদের জন্য দৌড়ঝাঁপ। জেলা বিএনপির রাজনীতির ধারা অনুযায়ী শীর্ষ পদপ্রত্যাশীরাও মূলত দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে চেষ্টা-তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।

সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। কে হচ্ছেন সভাপতি আর কে হচ্ছেন সাধারণ সম্পাদক- এ নিয়ে নেতা-কর্মীদের মাঝে চলছে নানা আলোচনা।

নানা হিসাব-নিকাশ ও মেরুকরণও চলছে পদপ্রত্যাশী এসব নেতাকে নিয়ে। একজন আরেকজনকে ঘায়েল করতে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে করছেন অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ।

কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী ৩০ জুনের মধ্যে জেলা বিএনপির কমিটি গঠন করতে হবে। এরই মধ্যে ৩০ জুনকে সামনে রেখে থানা, উপজেলা ও পৌর কমিটি গঠন করা শুরু হয়েছে।

সভাপতি পদে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছেন, তারা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি রোমানা মাহমুদ, জেলা বিএনপির সহসভাপতি নাজমুল হাসান তালুকদার রানা ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন ইসলাম খান।

সাধারণ সম্পাদক পদে যারা আগ্রহী, তারা হলেন জেলা বিএনপির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান, যুগ্ম সম্পাদক রাশেদুল হাসান রঞ্জন ও যুগ্ম সম্পাদক নুর কায়েম সবুজ।

সাইদুর রহমান বাচ্চু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগামী ৩০ জুনকে টার্গেট রেখে আমরা প্রতিটি থানা, উপজেলা ও পৌরসভায় কমিটি গঠনের কাজ শুরু করেছি। আশা করি, ২৫ জুনের মধ্যে ৯টি উপজেলা ও তিনটি থানার কমিটি গঠনের শেষ করতে পারব। এগুলো শেষ হলেই জেলা শাখার সম্মেলনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হবে।’

জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান বলেন, ‘আন্দোলন ও জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলা বিএনপির কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে কাজ করে চলেছি। ভবিষ্যতেও কাজ করতে চাই।’

জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন ইসলাম খান বলেন, ‘২২ বছর দায়িত্ব পালন করেছি। দলকে সুসংগঠিত করেছি। তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করেছি। সবাই আমাকে চেনে ও জানে। এ কারণে নেতা-কর্মীরা আমাকে চাইতে পারে। দল যদি আমাকে দায়িত্ব দেয়, তাহলে কাজ করে যাব। তবে আমি কারও সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব না।

সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আকবর আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে আছি। আন্দোলন করেছি, জেলেও গিয়েছি। তবে আগের দলের সঙ্গে এখনকার দলের তুলনা হয় না। বর্তমানে জেলা বিএনপির অনেক নেতাই বিতর্কিত। তাদের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে কমিটি গঠনের অভিযোগ রয়েছে। তাদের সঙ্গে রাজনীতি করা যায় না। স্বচ্ছ ও ত্যাগী নেতাদের দায়িত্ব দিলে দল গতিশীল হবে। আন্দোলন সফল হবে।’

২০১৭ সালের ১৬ জুলাই সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির ৩৭ সদস্যের কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় বিএনপি। পরে পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.