প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ যে পরিমাণ আছে, তা দিয়ে ৯ মাসের খাবারও কিনে আনা যাবে বলে।

 

বুধবার (২৭ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন তিনি।

 

দেশের চাহিদার তুলনায় বেশি পেট্রল ও অকটেন আছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির আমলে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে রিজার্ভ ছিল ৩ বিলিয়নের কিছু উপরে আর আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর আমরা যখন ২০০৯-এ সরকার গঠন করি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় কিছুটা বেড়েছিল। ৭ বিলিয়নের মতো আমরা পেয়েছিলাম। সেখানে ৪৮ বিলিয়ন পর্যন্ত রিজার্ভ বাড়াতে আমরা সক্ষম হয়েছিলাম।’

 

তিনি বলেন, ‘করোনাকালে আমাদের আমদানি বন্ধ ছিল, এরপর আমদানি করতে হয়েছে, আমদানি করতে যেয়ে এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের জন্য আমাদের রিজার্ভ খরচ করতে হয়েছে। তাছাড়া আমরা যে ভ্যাকসিন কিনে দিয়েছি, বিনা পয়সায় ভ্যাকসিন দিলাম, বিনা পয়সায় ভ্যাকসিন সেখানেও তো আমাদের প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়েছে। ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য সিরিঞ্জ থেকে শুরু করে যা যা দরকার সেগুলো তো আমরা বিদেশ থেকে কিনে এনেছি। শুধু কিনে আনা না, আমাদের বিমান পাঠিয়ে সেগুলো নিয়ে আসতে হয়েছে। সেখানে বিরাট অংকের টাকা আমরা খরচ করেছি।’

 

দলীয় নেতাকর্মীদের সরকারের উন্নয়ন দেশবাসীর সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশের অগ্রগতি ব্যাহত করার অনেক ষড়যন্ত্র আছে, চক্রান্ত চলছে। আমি বিশ্বাস করি, যত চক্রান্তই করুক বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না। আমরা অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছি। উন্নয়নের অপ্রতিরোধ্য এ গতিকে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।’

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঝড়-ঝাপটা এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশের কারণে অনেক কিছুই মোকাবিলা করতে হবে। আমরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করে যেমন চলি, তেমনি বৈশ্বিক যে দুর্যোগ সেটাও মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে পারবো। সেই বিশ্বাসও আমার আছে।’

 

শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবক লীগকে এটাই বলবো, তোমাদের কাজ হবে আমরা যে মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি, তা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা। যে উন্নতি দেশের হয়েছে, শিক্ষার দ্বার অবারিত হয়েছে, বহুমুখী শিক্ষার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি, কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করেছি, সেই সঙ্গে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছি।

 

সরকারপ্রধান বলেন, ‘কে কী বললো সেদিকে না গিয়ে আমরা মানুষের জন্য যে উন্নয়ন করেছি, সেই উন্নয়নের কথাগুলো একেবারে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। বার বার বলতে হবে। এদিকে দৃষ্টি দিতে হবে এবং এই কাজটা করতে হবে।’

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবক লীগ যেভাবে মানুষের সেবায় নিয়োজিত রয়েছে, সেভাবেই কাজ করে যাবে বলে আশা করি। সংগঠনকে সুসংগঠিত করে শক্তিশালী করার পাশাপাশি দুঃসময়ে যেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে, তা অব্যাহত রাখবে। একটি সুশৃঙ্খল সংগঠন হিসেবে জাতির পিতার স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে আর্তমানবতার সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রাখবে এবং নিবেদিতপ্রাণ হয়েই রাজনীতি করবে।’

 

সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবুর সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

 

স্বেচ্ছাসেবক লীগের গত এক বছরের কর্মকাণ্ড এবং সদ্য প্রয়াত দলটির সাবেক সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহের ওপর দুটি পৃথক ভিডিওচিত্র অনুষ্ঠানে প্রদর্শন করা হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘স্বেচ্ছাসেবার এক বছর’ শীর্ষক একটি প্রকাশনার মোড়কও উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published.