শেফাইল উদ্দিন

কক্সবাজারের রামু উপজেলার ঈদগড় বড়বিল কমিউনিটি ক্লিনিক ভবন নির্মাণে ধীরগতি ও লুকোচুরি খেলা চলছে। এতে এলাকার লোকজনের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। অন্য দিকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্ব্যাস্থ্য সেবা প্রার্থীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

জানা যায়, জেলায় বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে এনজিও আইওএম এর বাস্তবায়নে ১০০ টি কমিউনিটি ক্লিনিক পুনঃ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ চলছে। তাঁরই ধারাবাহিকতায় রামু উপজেলায় ১৬ টি পুনঃ নির্মাণ কাজ চলছে।খোঁজ নিয়ে জানা যায়,রামুতে ১০ টি ক্লিনিকের কাজ ঠিকমতো চললেও ঈদগড় বড়বিল কমিউনিটি ক্লিনিক ও রশিদ নগর লামার পাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক ভবন নির্মাণ কাজে চলছে ধীরগতি ও চরম লুকোচুরি।উক্ত ক্লিনিক দুটির দায়িত্ব পাওয়া ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ক্লিনিক নির্মাণে অতিরিক্ত সময় ক্ষেপণ করছে, কাজের বিভিন্ন পয়েন্টে ভুল করছে, চলছে ভাঙ্গা-গড়া।উভয় ক্লিনিকের সিড়ি ভুল করেছে।বিভিন্ন কৌশলে ঠিকাদার প্রতিনিধি আব্দুল আলীম আইওএম এর মনিটরিং কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের যোগসাজশে কাজে ধীর গতি হচ্ছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। ৬২ লক্ষ টাকার পুনঃ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ ৩/৪ মাসে বাস্তবায়নের কথা থাকলেও দীর্ঘ সাত মাসেও ত্রিশ ভাগের বেশি কাজ হয়নি।মাত্র ২/৩ জন শ্রমিক দিয়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে নির্মাণ কাজ।বিভিন্ন অজুহাতে বিশ্ব ব্যাংকের দেওয়া এইচজিএসপি -কক্সবাজার ফান্ড হতে থেকে টাকা খোয়ানোর কৌশল বের করছে বাস্তবায়নকারী সংস্থার লোকজন।এরই মধ্যে এক দফা প্রকল্পের বাজেট বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেল। ঠিকাদার প্রতিনিধি আব্দুল আলীম ও আইওএম এর মনিটরিং প্রতিনিধি সাইফুল ইসলামের চরম অবহেলায় নির্দিষ্ট সময়ের অতিরিক্ত অতিবাহিত হলেও কাজের কোন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। এ বিষয়ে স্থানীয় দিন মুজুর জয়নাল, আয়েশা বেগম,জসিম সহ অনেকে জানান আমরা বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা নিয়ে অস্থায়ী কার্যালয়ে গিয়ে প্রচন্ড গরমে খুবই সমস্যা আছি। সেখানে বসার, দাঁড়ানোর জায়গা হচ্ছে না। ভবন নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করলে আমাদের এলাকার লোকজন এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাবে।
ক্লিনিকের সিজি কমিটির সদস্য ও স্থানীয় ইউপি সদস্য কামরুল আমিন জানান কাজের কি পরিমান ধীর গতি হচ্ছে এটা বলার কোন ভাষা নেই।‌ আমার এলাকার চিকিৎসা সেবা প্রার্থীরা খুবই কষ্টে আছে।

বড়বিল ক্লিনিকের জমিদাতা ও সহ সভাপতি আবুল কালাম জানান, কাজের খুবই ধীর গতি এ কারণে এলাকার লোকজনের খুবই সমস্যা হচ্ছে।

এই বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিনিধি আব্দুল আলীমের সাথে কথা হলে জানান আগে ধীর গতি হলে ও এখন খুবই দ্রুত কাজ চলছে। কাজ করার পর আবার ভেঙ্গে ফেলে কাজ করার বিষয়ে কিছুই বলতে পারেনি।
বাস্তবায়নকারী সংস্থার মনিটরিং কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ধীর গতির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন ধীরে গতির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবগত আছেন,সিডি ভেঙ্গে নুতন ভাবে করার বিষয়ে অস্বীকার করেন।

বড়বিল কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি এস,এম রেজাউল করিম জানায়,রামুতে কয়েকটি ক্লিনিক এর পুনঃ নির্মাণের প্রথম ধাপে কাজ শুরু হলে বড়বিল কমিউনিটি ক্লিনিক তার একটি,কিন্তু দীর্ঘ সাত মাস শেষ হলেও এই ক্লিনিকের কাজের অগ্রগতি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম!আমরা দ্রুত কাজের সমাপ্তি চায়।
রশিদনগর লামার পড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি নাছিমা আক্তার জানায়, পিলার বেইস ও সিড়ি সহ নানা জায়গায় মাপের গড়মিল,কাজের ধীর গতির কথা নাই বা বললাম কাজের মানও সন্তোষজনক নয়। আমরা টিকাদার পরিবর্তন চায়,কারণ টিকাদার অতিরিক্ত সময়ক্ষেপণ করছে।
এলাকাবাসী দ্রুত নির্মাণ কাজ শেষ করে জনগণের দূর গোঁড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.