বালিয়াডাঙ্গীতে মাদ্রাসার গাছ বিক্রি করে টাকা আত্বসাত ও জমি দখল করে ঘর নির্মানের অভিযোগ

 

মোঃ আব্দুস সবুর(বালিয়াডাঙ্গী)ঠাকুরগাঁওঃ

 

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার পাড়িয়া ইউনিয়নের জাউনিয়া ছোট লাহিড়ী দাখিল মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট ও মাদ্রাসার সভাপতি এবং এক দাতা সদস্যের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন মাদ্রাসা কমিটির এক সদস্য। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমি সহ এলাকার লোকজন দীর্ঘ দিন ধরে বহু কষ্ট করে জমিদান ও বিভিন্ন সহযোগিতা করে এই মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেছি কিন্তু বর্তমানে লক্ষ করতেছি যে মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট মোঃ দবিরুল ইসলাম, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এবং জমি দাতা মোঃ আফজাল হোসেন মিলে মাদ্রাসার জমি দখল করে মার্কেট নির্মান এবং মাদ্রাসার গাছ কেটে বিক্রি করে সব টাকা নিজেরাই আত্বসাত করছে। বিগত কয়েক দিন আগে মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট ও সভাপতির যোগসাজশে আফজাল হোসেন মাদ্রাসার ৩ টি মেহগনী গাছ কেটে বিক্রি করে প্রায় ২ লক্ষাধিক টাকা নিজদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিয়েছে। এছাড়াও মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট এর পরামর্শে মাদ্রাসার দাতা সদস্য আফজাল হোসেন জোর করে মাদ্রাসার জমি দখল করে মার্কেট নির্মান করে তার ভাড়ার টাকা তুলে মাদ্রাসার উন্নয়নের জন্য খরচ না করে নিজেরাই ভাগাভাগি করে আত্বসাত করে আসছে।

একই সাথে মাদ্রাসার পাশে রশিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি মাদ্রাসার জমি দখল করে পাকা বাড়ি নির্মান করছে এখানেও মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের হাত রয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও বলেন বিগত ২০ বছর সুপারের দায়িত্ব থাকার পরও মাদ্রাসার নামে দানকৃত বিভিন্ন জমি উদ্ধারের কোন উদ্দোগ গ্রহন করেননি তিনি। মাদ্রাসার মাঠে বিগত ৬ মাস আগে এক ব্যক্তি জোর করে গাছ রোপণ করেছে আজও পযন্ত তিনি কোথাও একটা অভিযোগও করেনি।

 

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় মাদ্রাসা থেকে কেটে নিয়ে যাওয়া গাছের শিকর গুলো পড়ে আছে, জোর করে লাগানো গাছ গুলো মাঠ দখল করে আছে,মাদ্রাসার জমিতে বিশাল মার্কেট এবং পাঁকা ঘর নির্মান করা হচ্ছে।

 

মাদ্রাসার গাছ কেন কাটা হয়েছে জানতে চাইলে আফজাল হোসেন বলেন,আমি মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট এর সাথে পরামর্শ করে গাছ কেটেছি এবং তাকেও কিছু টাকার ভাগ দিয়েছি।

মাদ্রাসার জমিতে পাকা মার্কেট নির্মান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বার বার সুপারিন্টেন্ডেন্ট ও সভাপতি সাহেবকে বলেছি মাদ্রাসার জমি গুলো ঠিক করে নিতে কিন্তু তারা আমার কোন কোথায় শোনেনি তাই অনেকেই সরলতার সুযোগ নিয়ে মাদ্রাসার জমি দখল করে পাঁকা ঘর ও মার্কেট নির্মান করেছে।

এখানে মাদ্রার সুপার ও সভাপতি যদি বাঁধা না দেয় তাহলে আমি কি করবো ওনার সব দোষ উনি সব কিছু দেখেও না দেখার ভান করে। মাদ্রাসায় দান কৃত জমি গুলো একমাত্র উনার অবহেলার কারনে যে যার মত করে দখল করে খাচ্ছে।

 

এবিষয়ে মদ্রাসার সভাপতি কাছে মুঠো ফোনে জানতে জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন।

 

মাদ্রারাসার এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট বলেন, বিভিন্ন ব্যস্ততার জন্য জমি গুলো ঠিক করা হয়নি এখন ঠিক করার প্রকিয়া চলছে,

গাছ কাঁটার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যার গাছ তিনি কেটে নিয়ে গেছেন এখানে আমার করার কি আছে ওনি মাদ্রাসায় কিছু টাকা দিতে চেয়েছে। মাদ্রাসার জমিতে মার্কেট নির্মানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন মৌখিক ভাবে জমি গুলো বদল করা হয়েছে তাই তারা মার্কেট নির্মান করেছে।

মাদ্রাসার মাঠে জোর করে গাছ লাগানো বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর দিতে পারনি।

 

এবিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আবদুর রহমান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমি এসম্পর্কে কিছুই জানিনা এবং কি এত কিছু হয়ে গেছে মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট আমাকে লিখিত বা মৌলিক কোন অভিযোগ দেয়নি, এখন আমি আপনাদের কাছ থেকে শুনলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published.