নিজস্ব প্রতিবেদক:
ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের বরখাস্ত হওয়া সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ফরিদপুর প্রেসক্লাবের বরখাস্ত সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান রুবেলের বিরুদ্ধে করা অর্থপাচার মামলা পুনরায় তদন্তে সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) বিশেষ জজ আদালত-১০ এর বিচারক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এই আদেশ দেন। মামলায় দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে ২ হাজার কোটি টাকার সম্পদ অবৈধ উপায়ে উপার্জন ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়।

এদিকে দেড় বছর আগে সংবাদ সম্মেলন করে মামলার পুনরায় তদন্তের দাবির বিষয়টি সঠিক ছিল বলে মনে করে ভুক্তভোগী পরিবার।
গত বছর ১৩ মার্চ রুবেল-বরকতের পরিবারের পক্ষ থেকে এবং চলতি বছর ৯ জুন সংবাদ সম্মেলন করে এই মামলার বিভিন্ন অসঙ্গতি তুলে ধরা হয়।
দেড় বছর আগে চার্জশিট গৃহীত হলেও দীর্ঘ চার্জ শুনানিতে মামলার অসংগতি বিচারকের নজরে আসে এবং তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত দায়রা জজ-১০ আদালত মামলাটির পুনঃ তদন্তের নির্দেশ দেন।
এর আগে ২০০০ কোটি টাকার পাচার মামলাকে রূপকথার সঙ্গে তুলনা করে ন্যায়বিচার ও সত্য উদঘাটনে সবাইকে পাশে থাকার অনুরোধ জানান রুবেল কন্যা। ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান রুবেলের মেয়ে যাওয়াতা আফনান রাদিয়া এক খোলা চিঠিতে এ অনুরোধ জানান।

চিঠিটি হুবহু তুলে দেয়া হলো-
আসসালামু আলাইকুম। আমি যাওয়াতা আফনান রাদিয়া গত ১৩/০৩/২০২১ তারিখে সংবাদ সম্মেলন করে আমার বাবা ইমতিয়াজ হাসান রুবেলের সম্পদের হিসাব গণমাধ্যমে তুলে ধরেছিলাম।
সিআইডি, দুদক, বিএফআইইউ হাইকোর্টে অর্থপাচারকারী যে তালিকা জমা দিয়েছে, সেখানে আমার বাবার নাম না থাকায় প্রমাণিত হয়েছে গণমাধ্যমে দেয়া আমার হিসাব সত্য ও সঠিক ছিল। তারপরও উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আমার বাবার নামে ২৯১০ কোটি টাকার মামলার একটি গল্পকাহিনীমূলক অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে।

একটি কুচক্রী মহল ও প্রশাসনের সরকার বিরোধী কর্মকর্তারা ব্যক্তিকে শায়েস্তার নামে এই রূপকথার মামলা তৈরি করে সরকার ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। আরো স্পষ্ট করে যদি উল্লেখ করি, ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি নিশান মাহমুদ শামিমকে এই ২০০০ কোটি টাকা মামলায় রিমান্ড নিয়ে নির্যাতন করে ১৬৪ ধারায় টাকা পাচারের স্বীকারোক্তির দাবি করা হয়।
এর ফলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ শামীমকে দল থেকে বহিষ্কার করে। এই সুযোগ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতারা এই মামলার উদাহরণ টেনে সরকারের দুর্নীতি তুলে ধরার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। অথচ ছাত্রলীগ নেতা শামীমের কোনও পাসপোর্ট নেই, একটি মাত্র ব্যাংক একাউন্ট যার লেনদেনের পরিমাণ সবমিলিয়ে মাত্র ২ লাখ টাকা।

সিআইডি কোনও উপায় না পেয়ে চার্জশিট থেকে তার নাম বাদ দেয়। এর আগে শামীম এই মামলায় দীর্ঘ ৯ মাস কারাবরণ করেন। দল থেকে বহিষ্কার হন। রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়ে বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
আবারো বলছি, সৎ সাহস আছে বলেই আমাদের সম্পদের হিসাব গণমাধ্যমে তুলে ধরেছিলাম। যদি আমাদের দেয়া সম্পদের হিসাবে বিন্দু পরিমাণ ভুল ধরেন, তাহলে যেকোনও শাস্তি মাথা পেতে নিব। মামলাটি এখন রাজনৈতিক খোরাকে পরিণত হয়েছে। মামলাকে অতিরঞ্জিত করায় আমরা লাগাতারভাবে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। সরকার দলীয় লোকের নামে মামলা হলে স্বাভাবিক আইন ও বিচার তার পক্ষে পাওয়া দুরূহ।

মামলার অসংগতিগুলো আপনাদের অবগতির জন্য কিছুটা নিম্নে তুলে ধরলাম- অভিযোগপত্রের ৭১নং পাতায় ৫ম লাইনে মানিলন্ডারিং উপায়ে উপার্জন ২ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা। ৭ম লাইনে পাচারকৃত অর্থের পরিমাণ ২৯১০ কোটি টাকা। উপার্জনের চেয়ে পাচার বেশি হয় কিভাবে ?

১৮৮টি ব্যাংক একাউন্ট লেনদেনের পরিমাণ ২৯১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বৈধ হিসাব দেখাচ্ছে ব্যাংক লোন ১৭১কোটি + টেন্ডার সিকিউরিটি ২০৮ কোটি = ৩৭৫কোটি টাকা। কায়দা করে এখানে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত বিলের টাকার পরিমাণ উল্লেখ না করে অবৈধ লেনদেন দেখানো হয়েছে ২৯১০-৩৭৫= ২৫৩৫কোটি টাকা।

ব্যাংক লেনদেনের ক্ষেত্রে জমাকৃত অর্থ আয়ের উৎস হিসাবে ধরা হয়। কিন্তু অভিযোগপত্রে উত্তোলনকৃত অর্থ এবং অভ্যন্তরীণ ব্যাংক লেনেদেনের পরিমাণকেও আয় হিসাবে ধরে এ রূপকথার মামলাটি তৈরি করা হয়েছে।
জমা না হলে উত্তোলন হবে না। তাহলে এই ২৯১০ কোটি টাকার মধ্যে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ কত এবং উত্তোলনের পরিমাণ কত? এই অর্থ নগদ জমা হয়েছে নাকি সরকারি চেকের মাধ্যমে জমা হয়েছে। সরকার কর্তৃক প্রদত্ত বিলের চেক তো অবৈধ হতে পারে না।

অভিযোগপত্রের ৬৮নং পাতায় ২য় লাইনে বিভিন্ন দপ্তরের বরাত দিয়ে ঠিকাদারি কাজের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে ৮৩৪ কোটি টাকা। এই ৮৩৪কোটি টাকা চেক ব্যাংক জমা দিয়ে উত্তোলন করলে লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৮৩৪+৮৩৪= ১৬৬৮ কোটি টাকা।এ ঠিকাদারি কাজগুলো ব্যাংক লোনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রত্যেকটি কাজের বিপরীতে এসাইনমেন্টকৃত লোন একাউন্ট থাকায় প্রাপ্ত চেক প্রথমে লোন একাউন্টে জমা হয়, তারপর ট্রান্সফার হয়ে মূল একাউন্টে যাওয়ায় ইন্টারনাল লেনদেনের মাধ্যমে আরো লেনদেন হবে ১০০০ কোটি টাকার মতো।

এছাড়া পে-অর্ডার ব্যাংক গ্যারান্টি বাবদ ২০০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা লেনদেন বৈধ ভাবে হয়েছে। তাহলে সরকারি ৮৩৪ কোটি টাকার বিপরীতে লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৬৬৮+১০০০+৩০০= ৩০৬৮ কোটি টাকা প্রায়।
বাংলাদেশে যারা ব্যাংক লোনের মাধ্যমে ঠিকাদারি কাজ করেন তাদের সবারই ব্যাংক একাউন্টের লেনদেন প্রক্রিয়া এভাবেই সম্পন্ন হয়। আর কৃত কাজের বিলের ১০% থেকে ১৫% হয় লাভ। ব্যাংক লেনদেনের পরিমাণকে সম্পদ হিসাবে ধরে বলা হচ্ছে মানিলন্ডারিং উপায়ে উপার্জন।

অভিযোগপত্রের এ জাতীয় হিসাব বর্বর যুগের সাথে তুলনা করা চলে। আমার বাবা ২০০১ সাল থেকে ব্যাংক লোন নিয়ে ব্যবসা করেন। গত ২২ বছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের সন্দেহভাজন লেনদেনের তালিকায় তার নাম কখনই ছিল না। তিনবার সর্বোচ্চ করদাতার সম্মাননা পেয়েছেন। তারপরেও কেন এই মিথ্যা মামলা ?

অভিযোগপত্রের ৬৯নং পাতায় একই নামে একাধিক দরপত্রের কথা বলা হচ্ছে। বাস্তবে ই-জিপিতে একই নামে একাধিক দরপত্র দাখিলের সুযোগ নেই এবং কাজের সংখ্যার চেয়ে পে-অর্ডারের সংখ্যা বেশি হওয়া স্বাভাবিক। কারণ, সব দাখিলকৃত দরপত্রে কাজ পাওয়া যায় না। দিনাজপুর এক্সিম ব্যাংকে আরটিজিএসের মাধ্যমে টাকা ট্রান্সফারের কথা বলা হয়েছে। বাস্তবে ওই ব্যাংকে আমার বাবা বা কোনও আত্মীয় স্বজনের একাউন্ট নেই।

অভিযোগ পত্রের ২২নং পাতায় ৭ নং কলামে ক্রমিক নং ১২৯, দলিল নং ৫৩৫৪ তে ২০১৬ সালে ৩৩০০ বিঘা জমি বেশী যোগ করে দেখানো হয়েছে।

অভিযোগ পত্রের ১১-৬৮ পাতায় পর্যন্ত ৫২টি দলিলকে দুই বা ততোধিক বার উল্লেখ করেছে। ক্রমিক নং অনুসারে তুলে ধরা হলো:- ২/৭, ৮/১৩, ৯/১১, ২০/২১, ৩৫/৯৩, ৬৬/৭৩, ৮২/৯৮, ৪৯/১২৮, ৯৯/১০৫, ১০০/১০৬, ১০৪/১১০, ১৪৬/১৮২, ১৪৭/১৫৮, ১৪৮/১৫৭, ১৪৯/১৬০, ১৫৫/১৭৭, ১৬৬/১৯৫, ১৭০/১৮৮, ১৭৮/১৯৮, ১৮১/১৯৭, ১৮৫/১৯৩, ১৯২/২০৭, ৩০৬/৩৩২/২৫৬, ৩০৭/৩৩৪/৩৫৭, ৩০৮/৩৩১/৩৫৮, ৩০৯/৩৫৯, ৩১০/৩৬০, ৩২৫/৩৭০, ৩৮২/৪০৫, ৩৮৩/৪০১, ৩৮৪/৪০২, ৫০/৭২/৮১, ১১৭/১২৪, ১১৮/২১১/২৪৩, ১১৯/১২২/৪৮১, ১২০/২০৯/২৪১, ১২১/১৩৬, ১১৫/১২৩/১৩৫, ১১৬/১২৫/১৩৭, ১২৪/১৩৪, ২১০/২২৪, ২১২/২৪৩, ২৪০/৩৬৬, ২৯০/৪৮২, ৪২৯/৪৩০/৪৮৫, ৪২৭/৪২৮/৪৮৬।

ভুল দলিল ১৮টি উল্লেখ করেছে ক্রমিক নং অনুসারে:- ১০, ৮৪, ৮৬, ১৫৯, ১৬৭, ১৯৬, ৩১৫, ৮৩, ১২৯, ১৫৩, ২০১, ৩৮১, ৪১৪, ৪১৯, ৪২২, ৪৭৬, ৪৭৭, ৪৮৩।

মেয়াদ উত্তীর্ণ বায়নাকৃত বাতিল দলিল উল্লেখ করেছে ১৬টি ক্রমিক নং অনুসারে:- ৬, ১৭, ১৮, ৩৭, ৫৪, ১০১/১০৭, ১১১, ১৫৬, ১৮৯, ২০৩, ২০৪, ২০৬, ৩৬৭, ৩৬৯, ৪০৪।

ব্যাংকে মরটগেজ আমক্তানামার উল্লেখ করেছে ২২টি ক্রমিক নং অনুসারে:- ৪, ৮, ১২, ৩৯, ৫৫, ৫৭, ৬০, ১০২/১০৮, ১৫০/২১৩, ২০০, ৪২, ৪৩, ৪৪, ৪৫, ১১৪, ৩৬১, ৩৬৮, ৩৯৯, ৪০০।

বিক্রয়কৃত দলিল উল্লেখ করেছে ২৯টি ক্রমিক নং অনুসারে:- ৭০, ৭১, ৩৬৩, ৩৬৪, ৪৪৪, ৪৪৫, ৪৪৬, ৪৪৭, ৪৪৭, ৪৪৮, ৪৫০, ৪৫১, ৪৫২, ৪৫৩, ৪৫৪, ৪৫৫, ৪৫৬, ৪৫৭, ৪৫৮, ৪৫৯, ৪৬০, ৪৬১, ৪৬২, ৪৬৩, ৪৬৪, ৪৬৫, ৪৬৬, ৪৭২, ৪৭৩, ৪৭৪, ৪৭৮।

বাতিলকৃত আমমুক্তানামা ৪টি ক্রমিক নং অনুসারে:- ১৫১, ২১৪, ১৫২, ৩৬৫।
যৌথমালিকানা দলিলকে একক মালিকানা দলিল হিসাবে উল্লেখ করেছে ২৯টি ক্রমিক নং অনুসারে:- ১৫/২৩, ২৯/৪৮, ৩২/২২৯, ৩৩/৪৯, ৩৪/৪৬, ১০৩/১০৯/১৩০, ১৬৮/২০৫/২২৫, ২২, ৩৬, ৪১, ৫৮, ৫৫, ৬১, ৬২, ৬৭, ৮৫, ৮৭, ৯৪, ১১৩, ১৮৬।

মূল্য বেশি দেখানো হয়েছে ১৭টি দলিলে যাহার ক্রমিক নং অনুসারে:- ১৪, ১৯, ২৪, ২৫, ৪৭, ৫১, ৭২, ৭৭, ৭৯, ৯৭, ১২৬, ১২৭, ২১০, ২৮১, ৩০০, ৩০১, ৩৭৬।

অভিযোগ পত্রের ভুল জমির হিসাবগুলো বাদ দিলে প্রকৃত জমির পরিমাণ আয়কর নথিতে আয়ের উৎসসহ উল্লেখ আছে। তথ্য-প্রমাণ ছাড়া ব্যাংক লেনদেনের পরিমাণ সম্পদ হিসেবে ধরে এই রূপকথার মামলা সাজানো হয়েছে।

এ মামলায় যাদের সহযোগী আসামি করা হয়েছে, তাদের কারোর সঙ্গেই আমার বাবার আর্থিক লেনদেনের সম্পর্ক নেই। অধিকন্তু যাদেরকে এ মামলার স্বাক্ষী বানানো হয়েছে তাদের নিকট জমি বায়না বাবদ আমাদের টাকা পাওনা রয়েছে।

দুদক ২ বছর অনুসন্ধান করে কোম্পানির সম্পদকে ব্যক্তিগত সম্পদ দেখিয়ে মামলা দিয়েছে ২৭ কোটি টাকার (কোম্পানির আয়কর নথি হিসাবে অন্তর্ভুক্ত না করে)। অপরদিকে সিআইডি ৭দিন অনুসন্ধান করে ওই একই ধারায় ২৯১০ কোটি টাকার অভিযোগপত্র দিয়েছে।

দুই রকম রিপোর্ট দিয়ে এই মামলার মাধ্যমে রাষ্ট্রের ২টি সংস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। এই মামলা এজাহার ও তদন্তকালে যিনি ডিআইজির দায়িত্বে ছিলেন তাকে সরকার ইতোমধ্যে বাধ্যতামূলক অবসর দিয়েছেন।

বিচারিক আদালত চার্জ গঠনের শুনানিতে এসব অসঙ্গতির জন্য তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেছেন এবং তদন্ত কর্মকর্তা সঠিক জবাব দিতে না পেরে আদালতের কাছে করজোরে ক্ষমা চেয়েছেন।

অস্ত্র মামলার এজাহার পরিবর্তন করা হয়েছে। এজাহারের সঙ্গে কোর্টে প্রেরণের ফরওয়াডিং, রিমান্ড আবেদন ও প্রতিবেদনের মিল খুঁজে পাওয়া যাবে না। তদন্ত কর্মকর্তা ১৬৪ এর আবেদন না করা  সত্বেও ১৬৪ করানো হয়েছে।
আইন অনুযায়ী ১৬৪ লিপিবদ্ধ করার জন্য প্রত্যেক আসামিকে আলাদাভাবে ৩ ঘণ্টা করে সময় দেয়ার নিয়ম। আমাদের মামলাগুলোতে এসব আইন মানা হয়নি। ১৩/০৬/২০২০ তারিখে ভিন্ন ৩ মামলার ৫জনকে, ১৮/০৬/২০২০ তারিখে ভিন্ন ২ মামলার ৩জনকে, ২৫/০৬/২০২০ তারিখে ৩ মামলার ৫ জনকে, ২৮/০৬/২০২০ তারিখে ভিন্ন ২ মামলার ২ জনকে, ৩০/০৬/২০২০ তারিখে ভিন্ন ২ মামলার ২ জনকে, ০১/০৬/২০২০ তারিখে ভিন্ন ২ মামলার ২ জনের জবানবন্দী একই সময় নেয়া হয়েছে।

৬টি মামলার শোন এ্যারেস্ট ও রিমান্ড শুনানীর জন্য আদালত থেকে আসামি উপস্থিতির জন্য জেল বরাবর সি.ডব্লিউ ইস্যু করা হলেও কোনও সি.ডব্লিউ জেলখানায় পৌঁছায়নি। তাহলে কিসের ভিত্তিতে আসামিকে আদালতে হাজির করা হলো এবং কি প্রক্রিয়ায় রিমান্ড শুনানি ও শোন এ্যারেস্ট দেখানো হলো।
গ্রেপ্তারের পর ৩টি মামলা দেওয়া হয় এবং ৩ মামলার বাদীর দাবি আসামিকে সে গ্রেপ্তার করেছে এবং মামলা লিপিবদ্ধ পর্যন্ত আসামি তার নিকট ছিল। এটা কি করে সম্ভব? একজন আসামি একইসঙ্গে ৩ জনের নিকট ৩ স্থানে কিভাবে থাকে। প্রথম বাদী আসামি নিয়ে উপস্থিত হয়েছে ৯:৩০ মিনিটে, দ্বিতীয় বাদী আসামি নিয়ে উপস্থিত হয়েছে ১০:৩০ মিনিটে, তৃতীয় বাদী আসামী নিয়ে থানায় উপস্থিত হয়েছে ১১:৩০ মিনিটে।

অভিযোগপত্রের পিসিপিআর এ ১৪টি মামলা উল্লেখ করা হয়েছে। তার মধ্যে ক্রমিক নং ২, ৩, ৫, ৬, ৭ (৫টি) মামলার এজাহার বা চার্জশিটে নাম না থাকা সত্বেও তা উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি ৯টি মামলা গ্রেফতারের পর দায়ের করা হয়েছে।
আমার বাবা গত ২ বছর যাবত কারাগারে আটক আছেন। গ্রেপ্তারের পর রিমান্ড নিয়ে তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয় এবং ১৪টি মিথ্যা মামলা দেয়া হয়।
ইতোমধ্যে এ নির্যাতনের ছবি সোস্যাল মিডিয়ায় ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। আমাদের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লুটরাজ চালিয়ে আগুন দেয়া হয়েছে। সরকারি কাজের বিপরীতে ব্যাংক লোন একাউন্টগুলো জব্দ করা হয়েছে।
আমার মা চাচির নামে চুরির মামলাসহ একাধিক মামলা দেয়া হয়েছে। পরিবারের ছোট ছোট ৯টি ভাই বোন আমরা। পরিবারকে দীর্ঘ ২ বছর যাবত বাড়ি ঘরে যেতে দেওয়া হয় না। আমার বাবা ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ছিলেন।

একজন সাংবাদিকের সন্তান হিসেবে সাংবাদিক সমাজের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি, যদি সত্যি হই তাহলে ন্যায় বিচারের স্বার্থে আপনারা আমাদের পরিবারের পাশে থাকবেন। সত্য তুলে ধরে আমাদের বাঁচাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Don`t copy text!
%d bloggers like this: