মোঃ বশির আহাম্মেদ বরিশাল (বাকেরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ বরিশালের বাকেরগঞ্জে টাকা না দিলে আনসার সদস্যদের ভোটকেন্দ্রের ডিউটি মিলছে না। বাকেরগঞ্জ উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসের লোকজনের চাহিদামতো টাকা দিলেই মিলবে নির্বাচনী ডিউটি। এমন অভিযোগ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক আনসার সদস্যের। জানা গেছে, আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন৭ জানুয়ারি। উপজেলায় নির্বাচনে১১৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে দায়িত্ব পালনের জন্য ১৩৫৬জন আনসার সদস্য প্রয়োজন। প্রয়োজন অনুযায়ী আনসার সদস্য চেয়ে চিঠি দেয় জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়। সেই চিঠি অনুসারে ১৩৫৬ জন আনসারের তালিকা করা হয়। ওই তালিকা তৈরি করতে বাকেগঞ্জ উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসের প্রশিক্ষক মাছুম বিল্লাহকে দেয়া হয়। এই তালিকা করতে তিনি প্রতি আনসার সদস্যের কাছ থেকে ৮০০ টাকা ১০০০ হাজার টাকা আদায় করেছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। যারা টাকা দিয়েছে তারাই ওই তালিকায় স্থান পেয়েছে। যারা টাকা দেয়নি তাদের নাম তালিকায় নাম নেই। তারা বলেন, আমরা টাকা দেইনাই তাই আমাদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেনি। প্রত্যেক আনসার সদস্যের কাছ থেকে ৮০০থেকে ৯০০ টাকা করে নিয়ে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তালিকায় নাম দেয়া হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, আনসার ভিডিপি অফিস বিভিন্ন আনসার কমান্ডারের মাধ্যমে উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষক মাছুম বিল্লা এ টাকা আদায় করে তালিকা করছেন। যারা টাকা দিয়েছে তাদেরই নাম তালিকায় উঠেছে। তারা আরও বলেন, পূজা ও ইউপি নির্বাচনেও এই কাজ করেছেন উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসের কর্মকর্তারা । কলসকাঠীর ইমরান বলেন, আমি তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য ৯০০ টাকা দিয়েছি, তারপরও আমার নাম তালিকায় নেই। তিনি আরও বলেন, আমি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আনসার সদস্য আমাদের ইউনিয়নের দল নেতা নুরনাহার অফিসে খরচ আছে বলে টাকা নিয়েছে আমি নুরনাহারের বিরুদ্ধে (৩ জানুয়ারী) বুধবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। অভিযোগ দেয়ার সময় উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা বলেন কোনো সাংবাদিকদের জানাই ছেন যদি জানা তাহলে আমি কিন্তু বিচার করতে পারবোনা। ভরপাশার বাসিন্দা রহিম হাওলাদার বলেন আমি টাকা দেতে পারি নাই তাই আমার নাম তালিকায় ওঠেনি। যার টাকা দিয়েছেন তাদের নাম ঠিকই উঠছে। আনসার ভিডিপি অফিসের লোকজনের চাহিদামতো টাকা না দিলে ডিউটির তালিকায় নাম ওঠে না। বাকেরগঞ্জ পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের এলাকার আনসার সদস্য জাহাঙ্গীর বলেন, টাকা না দিয়ে কেউ আনসারের ডিউটিতে যেতে পারে না। শ্যামপুরের আনসার কমান্ডার জসিম বলেন, অফিসে কিছু টাকা পয়সা দেয়া লাগে তালিকায় নাম ঢুকাতে এজন্য অফিসে আসতেও কিছু টাকা খরচ হয়। রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের আউলিয়াপুর গ্রামের আনসার সদস্য আফসার বলেন টাকা দিয়েছি তাই আমার নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা শিরিন আক্তারের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি কিছু জানি না মাছুম জানেন । টাকা নেয়ার বিষয়ে মাছুম বিল্লাহর কাছে জানতে চাইলে তিনি টাকা নিয়ে তালিকা তৈরির কথা অস্বীকার করে বলেন, অনেক আনসার বিডিপি কমান্ডার ২০ লোকের তালিকা দেয় থাকেন সেখান থেকে ১০ জন নেয়া হয় সব নেয়া সম্ভব নয় তাই তারা এই ধরনের কথা বলেন। এবিষয়ে জেলা আনসার কমান্ডার পাবেল আমাদের সময় কে জানান তিনি বিষয়টি শুনেছেন তদন্ত করে দেখা হচ্ছে যদি কেউ দুর্নীতি করে থাকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don`t copy text!