এমপির মনোবাসনা পুরুণে গরীবের পেটে লাথি !

তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ 

 

রাজশাহী-৩ সংসদীয় আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদ আয়েন উদ্দিনের মালিকাধীন তুলসীক্ষেত্র বিলে ‘জলসা ঘর’ খ্যাত কথিত বিনোদনকেন্দ্রে যাতায়াতের সুবিধার্থে

তানোরের সীমান্তবর্তী মোহনপুরের সইপাড়া মোড়ে অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড গড়ে তুলতে প্রায় অর্ধশতাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে উচ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয়রা এঘটনাকে এমপির মনোবাসনা পুরণে গরীবের পেটে লাথি মারার সামির বলে অবিহিত করেছেন। এদিকে এখবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় এমপিকে ঘিরে ব্যাপক নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টির পাশাপাশি গণঅসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জৈষ্ঠ নেতা বলেন, আইন প্রনেতার এমন আইনবিরোধী কাজে তিনি তো বির্তকিত ও জনবিচ্ছিন্ন হচ্ছেন, পাশাপাশি দলের ভাবমুর্তিক্ষুন্ন হচ্ছে, তারা এবিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, দেশ স্বাধীনের পর থেকে রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের মোহনপুর উপজেলার সইপাড়া মোড়ে প্রায় অর্ধশতাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ক্ষুদ্র ব্যবসা করে জীবীকা নির্বাহ করে আসছেন। বিগত সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়েও তাদের উচ্ছেদ করা হয়নি। অথচ প্রয়োজন না থাকলেও শুধুমাত্র এমপির কথিত ওয়াটার পার্কে যাতায়াতের জন্য সিএনজি ষ্ট্যান্ড গড়ে তুলতে এমপির মদদে উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুস সালামের কথিত এপিএস হুমায়ন কবির ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এসব ভুমিহীন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করেছে। এদিকে অর্থ উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে এসব ভুমিহীনরা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের অভিযোগ,অবৈব ষ্ট্যান্ড করতে অবৈধভাবে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি) প্রকল্পের টাকা খরচ করা হচ্ছে। সইপাড়া মোড়ের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মাহাবুর রহমান জানান, এখানে মিশুক স্ট্যান্ডের কোন প্রয়োজন নাই, এমপির তুলশীক্ষেত্র অবস্থিত কথিত ওয়াটার পার্কে দর্শনার্থীদের যাওয়ার সূবিধার্থে আমাদের মত অসহায় মানুষের পেটে লাঠি মেরে মিশুক স্ট্যান্ড নির্মাণ করা হচ্ছে। ভেঙ্গে ফেলা বাড়ীর মালিক আফজাল হোসেন জানান, ওই স্থানে মাটি ভরাট হলে মোড়ের পার্শ্ববর্তী পাড়ায় পানি নিষ্কাশনের জন্য সদ্য নির্মিত দুটি বক্স কালভার্ট বন্ধ হয়ে যাবে, এতে পাড়ার মানুষকে অবর্নীয় দুর্ভোগ পোহাতে হবে। এদিকে ভুমিহীন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দোকান ও বসতঘর রক্ষায় চলতি মাসের ১৯ জুন রোববার রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন। কিন্তু আবেদনের পরের দিনই ২০ জুন সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসব ক্ষুদ্র ব্যবয়াসীদের দোকান ও বসতঘর উচ্ছেদ করেছে। এবিষয়ে মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) সানওয়ার হোসেন বলেন, যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এবিষয়ে জানতে চাইলে

মোহনপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এঘটনার সঙ্গে তার বা এমপি মহোদয়ের কোনো সম্পৃক্ততা নাই। তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসন তাদের উচ্ছেদ করেছে, একটি বিশেষ মহল তাদের বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.