গায়ানায় অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চার উইকেটে হারাল সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর তাতেই ক্যারিবিয়ানদের হোয়াইটওয়াশ করেই ছাড়ল টাইগাররা। ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে তাইজুল ইসলামের ফাইফারে মাত্র ১৭৮ রানে গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে লিটন দাসের ফিফটি ও সোহান-তামিমদের ক্যামিও ইনিংসের ওপর ভর করে ৯ বল ও ৪ উইকেট হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ

 

 

 

 

রান তাড়া করতে নেমে সতর্ক শুরু করলেও বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি ওপেনার নাজমুল হাসান শান্ত। ১৩ বলে ১ রান করেন শান্ত। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে লিটনের সঙ্গে ৫০ রান তুলেন তামিম ইকবাল খান। এরপর গুদাকেস মোতির বলে ৩৪ রানে আউট হন তামিম। আর আফিফ হোসেন ফেরেন শূন্যরানে।

 

 

 

 

এদিকে ব্যক্তিগত অর্ধশতক ঠিকই পূর্ণ করেছেন লিটন কুমার দাস। কিন্তু এরপর আর ইনিংসটা বড় করা হয়নি ডানহাতি এই ব্যাটারের। লিটনও ফিরেছেন মোতির বলেই। ৬৫ বলে খেলা তার এই ইনিংসটি চারটি চার ও একটি ছয়ে সাজানো।

 

এদিকে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে তাইজুল-মোস্তাফিজদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে শুরুটা ভালো হয়নি উইন্ডিজের। ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই প্রথম দুই ম্যাচ খেলতে না পারা তাইজুল ইসলাম ক্যারিবিয়ান ওপেনার ব্রেন্ডন কিংকে সাজঘরে ফেরান। পঞ্চম ওভারে আরেক ওপেনার সাই হোপকে নিজের শিকান বানান তিনি। আউট হওয়ার আগে কিং ৮ ও হোপ ২ রান করেন। আর দ্বিতীয় উইকেটে ব্যাট করতে এসে মোস্তাফিজুর রহমানের বলে ৪ রানে আউট হন শামারা ব্রকস।

 

 

 

 

চতুর্থ উইকেট জুটিতে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়া দলের হাল ধরেন দলনেতা নিকোলাস পুরান ও কেসি কার্থি। এ সময় দুজন মিলে তুলেন ৬৭ রান। ৬৬ বলে ৩৩ রানে নাসুম আহমেদের বলে তামিম ইকবালের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফেরেন কার্থি। পরের উইকেটে খেলতে নেমে সুবিধা করতে পারেননি রোভম্যান পাওয়েল। তাইজুল ইসলামের বলে বোল্ড হয়েছেন ব্যক্তিগত ১৮ রানে। আর আউট হওয়ার আগে ১৪ রান করেছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

 

এরপর আর কেউই পুরানকে সঙ্গ দিতে পারেননি। আকিল হোসেন আউট হয়েছেন মাত্র ১ রানে। আর ব্যক্তিগত অর্ধশতক পূর্ণ করার পর ৭৩ রানে থেমেছেন দলনেতা নিকোলাস পুরান। পুরানকে আউট করার মাধ্যমে নিজের ফাইফার নিশ্চিত করেন তাইজুল ইসলাম। ১০৯ বলে খেলা পুরানের ইনিংসটি চারটি চার ও দটি ছয়ে সাজানো। শেষদিকে ব্যাট হাতে ১৯ রান করেছেন রোমারিও শেফার্ড। আর ৭ রানে অপরাজিত থাকেন আলযারি জোসেফ।

 

 

 

 

বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ পাঁচটি উইকেট নিয়েছেন দলীয় স্পিনার তাইজুল ইসলাম। এছাড়া দুটি করে উইকেট নিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান ও নাসুম আহমেদ। আর একটি উইকেটের দেখা পেয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। আর দীর্ঘ সময় ধরে ক্রিজে থেকে ৬১ বল খেলে ২৬ রান করে আউট হন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

 

 

 

 

ছয় উইকেট হারিয়ে বেশ চাপে পড়ে বাংলাদেশ। এ সময় সপ্তম উইকেট জুটিতে মেহেদি হাসান মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে সামনে থেকে লিড দেন উইকেটকিপার ব্যাটার নুরুল হাসান সোহান। ফলে পড়েনি কোনো উইকেট। দুজনের অপ্রতিরোধ্য জুটিতেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় সফরকারীরা। ৩৮ বলে ৩২ রানে সোহান ও ৩৫ বলে ১৬ রানে মিরাজ।

 

 

 

 

১০ ওভারে দুই মেডেনসহ মাত্র ২৫ রানের খরচায় পাঁচ উইকেট নেওয়া তাইজুল ইসলাম ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.