শেফাইল উদ্দিন

কক্সবাজারের রামু উপজেলার ঈদগড়ে দীর্ঘ এক যুগ ধরে বড়বিল কমিউনিটি ক্লিনিকের আওতাভুক্ত সেবাপ্রদানকারীরা নিরলসভাবে কমিউনিটি পর্যায়ে মানসম্পন্ন স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কিত তথ্য এবং সেবা প্রদান করে আসছে ।

সাধারণ সেবা ও স্বাস্থ্য শিক্ষার পাশাপাশি কমিউনিটি পর্যায়ের বৃহত্তর পরিসরে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের পুষ্টিসেবার পাশাপাশি তাদের অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে, নিবেদিত বড়বিল কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবাদানকারী সিএইচসিপি এস,এম রেজাউল করিম স্ব-উদ্যোগে চলতি মাসে বড়বিল কমিউনিটি ক্লিনিকের ক্যাচমেন্ট এরিয়ায় এক পক্ষকাল ব্যাপী “গ্রোথ মনিটরিং অ্যান্ড প্রোমোশন (জিএমপি)” ক্যাম্পেইনের উদ্যােগ গ্রহণ করেন।ক্লিনিকের পুষ্টি কর্মী ও মাল্টিপারপাস হেলথ ভলান্টিয়ার এর সহযোগিতায় এই ক্যাম্পেইন এক পক্ষকাল ধরে পাড়া /মহল্লায় চলবে বলে জানান বড়বিল কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিএইচসিপি এস,এম রেজাউল করিম।
শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর)ক্যাম্পেইনের শুভ উদ্বোধন করেন ৪ নং ওয়ার্ডের সম্মানিত ইউপি সদস্য বেলাল উদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন সিজি সদস্য ওবাইদুল হক। উপস্থিত সকলে শুভ কাজের প্রশংসা করেন এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের সঠিক দায়িত্ব পালনে অপুষ্টি শিশু কমে যাবে বলে মনে করেন। উক্ত ক্যাম্পইনে সিএইচসিপি এস,এম রেজাউল করিম ও পরিবার কল্যাণ সহকারী নাজমা খানম পুষ্টি সম্পর্কিত তথ্য এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামগ্রিক পুষ্টি অবস্থার উন্নতির জন্য পরামর্শ প্রদান করেন।

অভিভাবকদের মাঝে শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি সম্পর্কিত তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া এবং শিশুদের রক্তস্বল্পতা এবং অপুষ্টি প্রতিরোধে খাদ্যে অনুপুষ্টি যোগের গুরত্ব সম্পর্কিত পরামর্শ প্রদান ছাড়াও ক্যাম্পেইন চলাকালীন বিনামূল্যে শিশুদের স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদান করেন।

এসব পরিষেবাগুলো হল শিশুর পরিমাপ ও ওজন পর্যবেক্ষণ, গ্রোথ চার্টে ওজন লিপিবন্ধ করা, জিএমপি কার্ড বিতরণ, মারাত্মক অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দিয়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার/হাসপাতালে রেফার করা ইত্যাদি। মা ও শিশু এবং অন্যান্য অভিভাবকদের ব্যাপক উৎসাহ এবং সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই ইভেন্টটি সফলভাবে ৪নং ওয়ার্ডর পূর্ব রাজঘাটা গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়।
এই “জিএমপি” ক্যাম্পেইন প্রোগ্রামে মোট ৩০ জন মা তাদের শিশুদের নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন। স্বাস্থ্য কর্মীরা বলেন, জিএমপি হলো শিশুদের অপুষ্টির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সেরা সমাধান। তিনি উল্লেখ করেন যে, শিশুর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি অবস্থার উন্নয়নে অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে বড়বিল কমিউনিটি ক্লিনিক এর সেবাপ্রদানকারীর এই উদ্যোগটি সত্যিই অসাধারণ, ব্যতিক্রমী এবং অত্যন্ত কার্যকর বলে করছে সচেতন মহল। সেবাপ্রদানকারীর স্ব-উদ্যোগে পরিচালিত এই ধরনের সমাবেশের আয়োজন এবং সফল বাস্তবায়নে অন্যান্য সেবাদানকারীদের উদ্বুদ্ধকরণে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে স্বাস্থ্য বিশ্লেষকগণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Don`t copy text!
%d bloggers like this: